Daily Bangladesh Mirror

ঢাকা, মঙ্গলবার, আগস্ট ৪, ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩

খেলা

শৈশবের মেসি-ভক্তি, আজ বাস্তবের গ্যালারিতে সা’দের উচ্ছ্বাস

ডেইলি বাংলাদেশ মিরর ডেস্ক:
১৭ দিন আগে মঙ্গলবার, আগস্ট ৪, ২০২৬
# ফাইল ফটো



শৈশবের এক ফালি রোদেলা বিকেল। পরনে আকাশি-সাদা জার্সি, হাতে ফুটবল। ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে থাকা ছোট্ট ছেলেটির চোখে অদ্ভুত এক মুগ্ধতা। সেই মুগ্ধতা ছিল ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসির প্রতি। সেইদিনের সেই ছোট্ট সা’দ আজ আমেরিকার  আইওয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দ্বিতীয় সেমিস্টারের ছাত্র। কিন্তু এত বছর পরও তার ফুটবল প্রেমের বিন্দুমাত্র পরিবর্তন হয়নি। বরং তা পরিণত হয়েছে এক অবিচ্ছেদ্য আবেগে।


শেখ মোহাম্মদ সা’দ, যিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন তার প্রিয় তারকাকে সরাসরি মাঠে খেলতে দেখার। ২০১০ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের আবছা স্মৃতি নিয়ে তার যাত্রা শুরু। তখন তার ধারণা ছিল, ফুটবল শুধু বিশ্বকাপেই খেলা হয়। তবে ২০১৪ সালে তার জীবনে এক বড় পরিবর্তন আসে। বাবার পরামর্শে আর্জেন্টিনা দলের সমর্থন শুরু করেন তিনি, কারণ বাবা বলেছিলেন যে মেসি একজন দুর্দান্ত খেলোয়াড় এবং তিনি বাম পায়ে খেলেন—যা ছোট্ট সা’দের কাছে মনে হয়েছিল এক অনন্য অলৌকিক হক্ষমতা।


সেই থেকে শুরু করে দীর্ঘ ১২ বছরের পথচলা। মেসির প্রতি এই ভক্তি সা’দকে ফুটবল দুনিয়ার প্রতি গভীর অনুরাগী করে তোলে। তিনি শুধুমাত্র একজন ভক্তই নন, বরং একজন নিষ্ঠাবান বার্সেলোনা সমর্থকও হয়ে ওঠেন। তার এই ফুটবল জীবনে ওঠানামা ছিল অনেক। ২০১৬-২০১৮ সালের আর্জেন্টিনার হতাশার স্মৃতিতে তিনি যেমন কষ্ট পেয়েছিলেন, তেমনি মেসির বিশ্বকাপ জয়ের পর তার চোখ অশ্রুসিক্ত হয়েছিল। এই আবেগের জোয়ার-ভাটা তাকে প্রতিটি ম্যাচের সময় টেলিভিশনের পর্দার সামনে আটকে রাখত।


১৭ জুন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল আমেরিকার কানসাস সিটির  অ্যারো হেড স্টেডিয়ামে  আর্জেন্টিনা বনাম আলজেরিয়ার মধ্যে ইতিহাস সেরা ফুটবল মেচ। 

আজ সেই ছোট্ট ছেলেটি আমেরিকার এক বিশাল স্টেডিয়ামে, যেখানে হাজার হাজার মানুষের ভিড়। চারিদিকে আকাশি-সাদা জার্সির ঢেউ। গ্যালারিতে বসা সা’দের চোখেমুখে জয়ের উজ্জ্বল হাসি। তার হাতে বাংলাদেশের সবুজ-লাল পতাকা। গায়ে আর্জেন্টিনার জার্সি। এই মুহূর্তটি শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ উপভোগ করা নয়, এটি তার শৈশবের স্বপ্নের বাস্তবায়নের এক অনন্য সাক্ষী বলে সা'দ তার বাবাকে লেখা একটি ক্ষুদে বার্তায় তার অনুভূতি ব্যক্ত করে এ কথা বলেন।


মেসির শেষ বিশ্বকাপে সা’দ নিজের প্রিয় তারকার ফুটবল জাদুকে বাস্তবে দেখার সুযোগ পেয়েছেন। তিনি দেখেছেন কীভাবে মেসি তার বাম পা দিয়ে নতুন ইতিহাস রচনা করেছেন, বিশ্বকাপে তার প্রথম হ্যাটট্রিক অর্জন করেছেন। সা’দের এই অভিজ্ঞতা তার জীবনের অন্যতম বড় স্মৃতি হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, “এটি ছিল অসাধারণ এক অভিজ্ঞতা। যদি সুযোগ থাকে, তবে আমি এই অভিজ্ঞতা হাজার বার অনুভব করতে চাই।”


সা’দের গল্পটি শুধু একটি ভক্তের গল্প নয়, এটি একটি স্বপ্ন জয়ের গল্প, যা প্রতিটি ফুটবলপ্রেমীর মনে আশার সঞ্চার করে। এই আবেগ, এই ভক্তি ফুটবলকে শুধু একটি খেলাই নয়, জীবনের এক অনন্য অনুভূতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

১৭ দিন আগে মঙ্গলবার, আগস্ট ৪, ২০২৬

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন