এতো অল্প সময়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে এতগুলো সংস্কার কখনো হয়নি বলে দাবি করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি বলেছেন, সংস্কার কী হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা এখন একটি সাধারণ প্রবণতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকে বলেন যে কোনো সংস্কারই হয়নি, কিন্তু এতো অল্প সময়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে এতগুলো সংস্কার কখনো হয়নি।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে
‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন’ শীর্ষক নীতি সংলাপে এসব কথা বলেন তিনি। সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত এই সংলাপে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, আইনজীবী এবং মানবাধিকারকর্মীরা অংশ নেন।অনুষ্ঠানে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিকের মৌলিক অধিকার সুরক্ষা, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার জবাবদিহিতা এবং আইন প্রয়োগে সমতা বিধানের মাধ্যমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও আইনের শাসন কীভাবে সুনিশ্চিত করা সম্ভব, সে বিষয়ে আলোকপাত করা হয়।
ড. আসিফ নজরুল বলেন, আমাদের রেমিট্যান্স বেড়েছে। যেখানে আগে মোটামুটি রাখার অবস্থাও ছিল না, এখন সেখানে তা সম্ভব হয়েছে। সংস্কারে ১০টি কথার পরামর্শের মধ্যে ৬টি রাখা হয়েছে, তাই আপনাদের বলার সুযোগ নেই যে আপনারা কোনো পরামর্শ রাখেননি।
তিনি উল্লেখ করেন, কিছু মানুষ নেতিবাচকতা ছড়িয়ে দেয় যা এক ধরনের উদ্দীপক হতে পারে, তবে এগুলো মানুষের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। আসিফ নজরুল বলেন, ১৯৫৪-৫৫ সালের যে প্রত্যাশা ছিল স্বাধীন বিচার বিভাগ গঠন করা, তা আমরা করেছি। সুপ্রিম কোর্টের সর্বশেষ যে নিয়োগ হয়েছে, তা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ভালো। সরকারের সব ক্ষমতা উচ্চ আদালতকে দিয়ে দেয়া হয়েছে, তবে জবাবদিহিতা ছাড়া স্বাধীনতা সফল হয় না।
তিনি আরও বলেন, উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের কোড অব কন্ডাক্টকে কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। মেজরিটি প্রোভিশন মানুষকে সফলতা দেবে। আইনগত সহায়তা এখন ৫ গুণ বেড়েছে।
আইন উপদেষ্টা বলেন, তাত্ত্বিকভাবে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য যা কিছু প্রয়োজন ছিল, আমরা তা করেছি। যদি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়, তবে আপনি এর সফলতা পাবেন। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আইনের শাসনের পথে আমরা অনেকটাই এগিয়ে গেছি। নির্বাচিত সরকার যদি পরবর্তীতে আন্তরিকতা না দেখায়, তবে আমরা এর সফলতা অর্জন করতে পারব না।
১৬ দিন আগে বুধবার, ফেব্রুয়ারী ৪, ২০২৬
