কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ‘প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহিদ হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র শিক্ষার্থী আব্দুল কাইয়ুমের পরিবারকে।
আব্দুল কাইয়ুম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস (এআইএস) বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ঢাকার সাভারের নিউমার্কেট এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন তিনি। পরদিন ৬ আগস্ট চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে 'প্রতিরোধ দিবস' উৎযাপন কমিটির সদস্য সচিব মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে শহিদ আব্দুল কাইয়ুমের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে তারা আসতে অপারগতা প্রকাশ করছে এবং পরবর্তীতে অনুষ্ঠানে আসার চেষ্টা করবেন।
তবে আব্দুল কাইয়ুমের মা আমন্ত্রণ পায়নি বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাদেরকে কোন আমন্ত্রণ জানানো হয়নি, আজকের অনুষ্ঠানের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।
রোববার (১২ জুলাই) বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে ‘প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম। মুখ্য আলোচক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদস্য ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল এবং ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ‘প্রতিরোধ দিবস’ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তথ্যমতে, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সূচনাপর্বে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর সংঘটিত পুলিশি হামলার প্রতিবাদ এবং তাদের ঐতিহাসিক প্রতিরোধকে স্মরণীয় করে রাখতে সিন্ডিকেটের ১১০তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১১ জুলাইকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সেই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় এ বছর প্রথমবারের মতো দিবসটি পালন করা হয়।
১ ঘন্টা আগে রবিবার, জুলাই ১২, ২০২৬