Daily Bangladesh Mirror

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, জুলাই ২, ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩

শিক্ষা

কুবির ক্রীড়া বৃত্তি বণ্টন ঘিরে বৈষম্যের অভিযোগ

কুবি প্রতিনিধি:
২ দিন আগে বৃহস্পতিবার, জুলাই ২, ২০২৬
# ফাইল ফটো





কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ২০২৬ সালের স্পোর্টস স্কলারশিপে খেলোয়াড় বাছাই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও মূল্যায়নের মানদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন লোক প্রশাসন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী খন্দকার মোরসালিন হোসাইন। 


এ বিষয়ে তিনি পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়ে গত সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা বিভাগের উপ-পরিচালক মনিরুল আলমের কাছে একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন।


মোরসালি হোসাইন জানান, তিনি চলতি বছর ভলিবল ক্যাটাগরিতে স্পোর্টস স্কলারশিপের জন্য আবেদন করেছিলেন। তবে মনোনীত না হলেও তার আপত্তি স্কলারশিপ না পাওয়া নিয়ে নয়; বরং কোন নির্দিষ্ট মানদণ্ডের ভিত্তিতে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে, সেটির ব্যাখ্যা জানতে চান তিনি।


তার দাবি, অতীত বছরগুলোতে ব্যক্তিগত অর্জন, দলগত সাফল্য এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অর্জিত সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে স্পোর্টস স্কলারশিপ প্রদান করা হতো। এ বছর আন্তঃবিভাগ ভলিবল টুর্নামেন্টে তিনি চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য ছিলেন। এছাড়া আগের দুই আসরে তৃতীয় স্থান অর্জন এবং ফুটবলে দুইবার রানারআপ হওয়ার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার।


তিনি আরও বলেন, চলতি আসরে ভলিবলে ‘ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট’ হয়েছেন সৌরভ এবং ‘ম্যান অব দ্য ফাইনাল’ হয়েছেন অমিত। বিভাগীয় নীতিমালা অনুযায়ী একই খেলোয়াড়কে দুইবার স্কলারশিপ দেওয়া হয় না বলে সৌরভ মনোনীত হননি এবং অমিত আবেদনও করেননি। তার দাবি, সার্টিফিকেট ও অর্জনের দিক থেকে তিনি অন্তত একজন নির্বাচিত শিক্ষার্থীর সমান এবং আরেকজনের চেয়ে এগিয়ে ছিলেন।


স্কলারশিপের ফল প্রকাশের পর তিনি শারীরিক শিক্ষা বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক মনিরুল আলমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে তাকে জানানো হয়, এ বছর ভলিবলে পারফরম্যান্সকে প্রধান বিবেচ্য ধরা হয়েছে। তবে পারফরম্যান্স মূল্যায়নের ভিত্তি কী এবং সেখানে কেন তিনি বাদ পড়লেন—এ প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।


পরবর্তীতে তাকে ক্রীড়া কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. সোহরাব উদ্দিন এর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়। সেখানে তার বক্তব্য শোনার পর পুনর্বিবেচনার জন্য লিখিত আবেদন জমা দিতে পরামর্শ দেওয়া হয়। আবেদন জমা দেওয়ার পর আবার যোগাযোগ করলে তাকে জানানো হয়, আবেদন করলেও ইতোমধ্যে গৃহীত সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সুযোগ নেই। এ বিষয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কোনো সিদ্ধান্তে ভুল বা অসঙ্গতি থাকলে সেটি পর্যালোচনা বা তদন্ত করা উচিত নয় কি না।


মোরসালিনের আরও অভিযোগ করেন, আন্তঃবিভাগ ভলিবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচেও ‘ম্যান অব দ্য ফাইনাল’ নির্বাচনে বিতর্ক ছিল। তার ভাষ্য, দ্বিতীয় সেটে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ধারাবাহিক পয়েন্ট এনে দলকে জয়ে বড় ভূমিকা রাখলেও তিনি পুরস্কার পাননি। বিষয়টি নিয়ে তার দলের পাশাপাশি প্রতিপক্ষ দলের কয়েকজন খেলোয়াড়ও বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।



তিনি বলেন, “আমি কারও প্রাপ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছি না। যারা স্কলারশিপ পেয়েছেন, তাদের প্রতি আমার পূর্ণ সম্মান রয়েছে। আমি শুধু জানতে চাই, কী মানদণ্ডে নির্বাচন করা হয়েছে এবং আমাকে কেন বাদ দেওয়া হয়েছে।”



তার আবেদনে তিনি চারটি বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছেন কোন নির্দিষ্ট মানদণ্ডে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে, নির্বাচিতদের ব্যক্তিগত অর্জন কী ছিল, সার্টিফিকেট মূল্যায়নের মানদণ্ড কী এবং যদি শুধুমাত্র পারফরম্যান্স বিবেচনা করা হয়ে থাকে, তাহলে সেই পারফরম্যান্স কীভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে।



এ বিষয়ে শারীরিক শিক্ষা বিভাগের উপ-পরিচালক মনিরুল আলম বলেন, “যারা আবেদন করেছে, তাদের বিষয়ে আমরা সভা করেছি। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। সেটি ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে, তাই এখন আর কোনো সংশোধনের সুযোগ নেই। তবে উপাচার্য অতিরিক্ত বরাদ্দ দিলে, যাদের নাম আমরা সুপারিশ করেছি কিন্তু এবার মনোনয়ন পায়নি বলে মনে করছে, ভবিষ্যতে তাদের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।”



এ বিষয়ে ক্রিয়া কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. সোহরাব উদ্দিন বলেন, “মুরসালিন ও পিয়াস দুজনই প্রায় সমান মানের খেলোয়াড়। একজন লিফটার, অন্যজন স্ম্যাশার। তাদের পারফরম্যান্সের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য করা কঠিন ছিল। এ বিষয়টি নিয়ে স্পোর্টস কমিটি প্রায় আড়াই ঘণ্টা আলোচনা করেছে।

আমাদের নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো ইভেন্টে দুইজনের পারফরম্যান্স সমান মনে হলে একই বছরের অন্যান্য খেলায় তাদের অবদানও বিবেচনা করা হয়। সেই বিবেচনায় দেখা যায়, পিয়াস শুধু ভলিবলেই নয়, ফুটবলেও চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য এবং বিশ্ববিদ্যালয় দলের অধিনায়ক। অন্যদিকে মুরসালিনও খুব ভালো খেলেছে। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ ছিল না।


তিনি আরো বলেন, "পরে বিষয়টি উপাচার্য স্যারের সঙ্গেও আলোচনা করেছি। আমি তাঁকে বলেছি, সম্ভব হলে ভবিষ্যতে পুরস্কারের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। এতে আরও বেশি শিক্ষার্থী স্বীকৃতি পাবে এবং খেলাধুলায় উৎসাহিত হবে।

মুরসালিনের বিষয়টি যেহেতু খুব কাছাকাছি ছিল, তাই আমরা আবারও কমিটির সভা করে আলোচনা করেছি। আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে শিক্ষা দপ্তরে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে এবং মুরসালিনকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।"

২ দিন আগে বৃহস্পতিবার, জুলাই ২, ২০২৬

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন