কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মেধাবৃত্তি, অসচ্ছল মেধাবী স্টাইপেন্ড ও স্পোর্টস স্কলারশিপের আওতায় ৪০২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে মোট ৩১ লাখ ২৮ হাজার ৫০০ টাকার বৃত্তির চেক বিতরণ করা হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক নির্বাচিত সাতজন মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতেও বৃত্তির চেক তুলে দেওয়া হয়।
সোমবার (২৯ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও সম্প্রসারণ শাখার উদ্যোগে আয়োজিত ‘আন্তর্জাতিক একাডেমিক অভিজ্ঞতা বিনিময় ও বৃত্তির চেক বিতরণ’ অনুষ্ঠানে এসব চেক বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গবেষণা ও সম্প্রসারণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থবছরে ২০৮ জন শিক্ষার্থী মেধাবৃত্তি বাবদ মোট ১৬ লাখ ৬১ হাজার ৫০০ টাকা, ১৮২ জন শিক্ষার্থী অসচ্ছল মেধাবী স্টাইপেন্ড বাবদ ১৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকা এবং ১২ জন শিক্ষার্থী স্পোর্টস স্কলারশিপ বাবদ ১ লাখ ২ হাজার টাকা পাচ্ছেন।
অনুষ্ঠানের অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করিম বলেন, অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গবেষণা, একাডেমিক কার্যক্রম, কারিকুলাম এবং শিল্প-সংযুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থায় অনেক এগিয়ে। এসব অভিজ্ঞতার আলোকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা, শিক্ষার মান ও একাডেমিক কাঠামো উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলামকে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের উপযোগী করে সাজানো, শিক্ষকদের গবেষণার সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, বিদেশি শিক্ষকদের সঙ্গে যৌথ গবেষণার পরিবেশ তৈরি এবং আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান উন্নয়নে কার্যকর প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি গবেষণাভিত্তিক ও আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল বলেন, “এই আয়োজন শুধু আর্থিক সহায়তা প্রদান নয়, বরং শিক্ষাকে আরও গতিশীল করার একটি উদ্যোগ। দারিদ্র্য কখনোই শিক্ষা গ্রহণের পথে বাধা হতে পারে না। আমরা এমন একটি সমাজ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে অর্থের অভাবে কোনো শিক্ষার্থী তার স্বপ্ন থেকে বঞ্চিত হবে না।”
অনুষ্ঠানের শেষ দিকে উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানদের মাধ্যমে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে মেধাবৃত্তি, অসচ্ছল মেধাবী স্টাইপেন্ড, স্পোর্টস স্কলারশিপ এবং ইউজিসির বৃত্তির চেক তুলে দেন।
৩ ঘন্টা আগে সোমবার, জুন ২৯, ২০২৬