ইরানে চলমান সামরিক অভিযানের সময়সীমা নিয়ে আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধের শুরুতে দ্রুত অভিযান শেষ হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করলেও এখন তিনি জানিয়েছেন, নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং এতে যত সময়ই লাগুক যুক্তরাষ্ট্র পিছিয়ে যাবে না।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ
সামরিক অভিযান শুরু হয়। এর পরদিন ১ মার্চ ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছিলেন, চার সপ্তাহের মধ্যেই অভিযান শেষ হওয়ার আশা করছেন তিনি। তবে বর্তমান পরিস্থিতি ও যুদ্ধের অগ্রগতি বিবেচনায় এখন আর কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিতে রাজি নন তিনি।ব্রিটিশ সাময়িকী টাইমকে দেওয়া এক বিশেষ টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প তার এই পরিবর্তিত অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত লক্ষ্যগুলো পূরণ করা।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে না দেওয়া। পাশাপাশি ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করাও যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। এসব লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন বাহিনী তাদের সামরিক অভিযান চালিয়ে যাবে বলেও তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন।
ইরানে এই অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে কোনো হামলার ঝুঁকি রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে মার্কিন নাগরিকদের সব সময়ই সতর্ক থাকা উচিত। তার মতে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে মানুষের উদ্বেগ থাকা অস্বাভাবিক নয়।
যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অভ্যন্তরীণ ঝুঁকির বিষয়েও তিনি জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, অভিযানের শুরুতে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছিলেন, এই যুদ্ধ প্রায় আট সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে। তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে সংঘাত আরও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এ বিষয়ে ট্রাম্প গভীর দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, যুদ্ধে প্রাণহানি অত্যন্ত বেদনাদায়ক হলেও অনেক সময় তা অনিবার্য হয়ে ওঠে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর প্রভাব শুধু ওই অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতেও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে।
সূত্র: সিএনএন
৩ দিন আগে সোমবার, মার্চ ৯, ২০২৬
