ইরানের রাজধানী তেহরান ও পবিত্র নগরী কোমে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ভয়াবহ বিমান হামলার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট। শুক্রবার কোম শহরের ৩টি আবাসিক এলাকায় চালানো এই হামলায় অন্তত ৬ জন নিহত হয়েছেন।
কোমের ডেপুটি গভর্নর জানিয়েছেন, হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা এখনও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এদিকে তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ
কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ইরানি নেতৃত্বের অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।ইরানের পশ্চিম আজারবাইজান প্রদেশের উর্মিয়া শহরে একটি আবাসিক কমপ্লেক্সে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। প্রদেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিচালক হামিদ সাফারি দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থাকে জানান, হামলায় চারটি আবাসিক ভবন পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং বেশ কয়েকজন সাধারণ মানুষ হতাহত হয়েছেন। এছাড়া কারাজ ও ইসফাহানের শিল্পাঞ্চলেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।
ইরানের স্বাস্থ্য উপমন্ত্রী আলী জাফারিয়ান জানিয়েছেন, চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত এক হাজার ৯৩৭ জন নিহত এবং প্রায় ২৫ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ২৪০ জন নারী এবং ২১২ জন শিশু রয়েছে।
নরওয়েজিয়ান শরণার্থী কাউন্সিলের প্রধান ইয়ান এগেল্যান্ড সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের মানুষ এখন চরম আতঙ্ক ও মানসিক ট্রমার মধ্যে রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার ৭০০ মানুষ নিহত হয়েছেন, যার অর্ধেকেরও বেশি ইরানে। তার মতে, এই সংঘাতে সবচেয়ে বেশি মূল্য দিচ্ছে সাধারণ বেসামরিক মানুষ।
যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই বৃহস্পতিবার নিজেদের শর্ত তুলে ধরেছে ইরান। তাদের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—শীর্ষ নেতাদের গুপ্তহত্যা বন্ধ করা, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নির্ণয় করে ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং ভবিষ্যতে এমন যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি না হওয়ার নিশ্চয়তা। একই সঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের স্বাভাবিক ও আইনগত অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিও জানিয়েছে তেহরান। বর্তমানে এই পথ অবরুদ্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।
এদিকে যুদ্ধের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে উপসাগরীয় দেশগুলোতেও। কুয়েতের ন্যাশনাল গার্ড দুটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ শহরে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ইরানে বিমান হামলার পাশাপাশি লেবাননেও স্থল অভিযান অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী। শুক্রবার দক্ষিণ লেবাননের সাজদ গ্রামের বাসিন্দাদের অবিলম্বে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, কেবল স্থল অভিযানের মাধ্যমে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণ করা সম্ভব নয়। এর জন্য লেবানন সরকারের সঙ্গে একটি রাজনৈতিক চুক্তি প্রয়োজন, যা বর্তমানে অনিশ্চিত।
এদিকে ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে শুক্রবার নিউইয়র্ক সময় সকাল ১০টায় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
৮ ঘন্টা আগে শুক্রবার, মার্চ ২৭, ২০২৬
