ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
সোমবার (১৭ মার্চ) টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এই দাবি করেন।
কাৎজ বলেন, ইরানের শাসকগোষ্ঠীর নেতাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে এবং তাদের সক্ষমতা
ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে।তিনি আরও বলেন, আমাদের সেনাবাহিনী শক্তিশালীভাবে অভিযান চালাচ্ছে, যাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ও কৌশলগত অবকাঠামোর ওপর আঘাত হেনে সেগুলো সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা যায়।
আলি লারিজানি কে ছিলেন
দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ইরানের শাসন কাঠামোর ভেতরে সংযত ও বাস্তববাদী নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন আলি লারিজানি। তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পরিষদের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনার সময়ে দেশের কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি।
১৯৫৮ সালে ইরাকের নাজাফ শহরে জন্মগ্রহণ করেন লারিজানি। তিনি আমোলের একটি ধনী ও প্রভাবশালী পরিবারে জন্মেছিলেন, যাকে একসময় টাইম সাময়িকী ‘ইরানের কেনেডি পরিবার’ হিসেবে উল্লেখ করেছিল। তার বাবা ছিলেন একজন বিশিষ্ট ধর্মীয় পণ্ডিত।
২০ বছর বয়সে তিনি ফরিদেহ মোতাহারিকে বিয়ে করেন। ফরিদেহ ছিলেন ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা রুহুল্লাহ খোমেনির ঘনিষ্ঠ সহযোগীর মেয়ে।
সমসাময়িক অনেক নেতার তুলনায় লারিজানির শিক্ষাগত পটভূমি ছিল ধর্মনিরপেক্ষ। তিনি গণিত ও কম্পিউটার বিজ্ঞানে ডিগ্রি অর্জনের পর পাশ্চাত্য দর্শনে ডক্টরেট সম্পন্ন করেন।
২০০৮ সালে তিনি ইরানের পার্লামেন্টে প্রবেশ করেন এবং টানা তিন মেয়াদে স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি অনুমোদনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
২০২৫ সালের আগস্টে লারিজানি আবারও নিরাপত্তা পরিষদের সচিব পদে ফিরে আসেন এবং ইরানের নেতৃত্বে একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে পুনরায় আবির্ভূত হন।
৩ দিন আগে শুক্রবার, মার্চ ২০, ২০২৬
