Daily Bangladesh Mirror

ঢাকা, মঙ্গলবার, আগস্ট ১১, ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

কুমিল্লা

কুমিল্লা নগরীতে চাঁদা না দেওয়ায় বিএনপি নেতাকে কোপাল যুবদল কর্মী

স্টাফ রিপোর্টার:
২২ দিন আগে মঙ্গলবার, আগস্ট ১১, ২০২৬
# ফাইল ফটো



কুমিল্লা নগরীর রেইসকোর্স এলাকায় বিশ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় এক ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কিশোর গ্যাং লিডার যুবদলের নামধারী কর্মী আকিবুর রহমান আকিবসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে। অভিযোগে নাম উল্লেখ করা অন্যরা হলেন রঞ্জু, মো. জানে আলম জনি, রুবেল, জুহেব, সানি, সুমন ওরফে পিচ্চি সুমন, অপু, সুমন, মো. বাসেল, মো. এনামুল হক দীপু ওরফে ডাইল দীপু, মো. রাকিব ও রেনু মিয়া। গুরুতর আহত ওই ব্যবসায়ী বর্তমানে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় আহতের স্ত্রী কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।



অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আহত জামাল হোসেন (৪৮) নগরীর উত্তর রেইসকোর্স এলাকার বাসিন্দা। তার স্ত্রী তাছলিমা আক্তার বৃহস্পতিবার কোতয়ালী মডেল থানায় দায়ের করা অভিযোগে উল্লেখ করেন, প্রায় এক বছর আগে জামাল হোসেন রেইসকোর্সের ধানমন্ডি ৬ নম্বর এলাকায় প্রায় ৮ দশমিক ৭৫ শতক জমি বায়নামূলে ক্রয় করেন। পরবর্তীতে ওই জমির প্রবেশপথে অভিযুক্তরা জোরপূর্বক বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণের চেষ্টা করলে জামাল হোসেন বাধা দেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।



অভিযোগে আরও বলা হয়, স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলে অভিযুক্তরা জমির মালিকানার কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। বরং তারা দাবি করেন, ওই জমি অন্য কারও কাছে বিক্রি করতে হলে তাদের ২০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে। অন্যথায় জামাল হোসেনকে প্রাণে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়।

তাছলিমা আক্তারের দাবি, সম্প্রতি তার স্বামী জমিটি বিক্রির পর ক্রেতাদের দখল বুঝিয়ে দিতে গেলে অভিযুক্তরা আবারও বাধা দেয়। এ সময় তারা চাঁদা দাবি করে এবং তাদের কাছে থাকা দেশীয় অস্ত্র, চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল ও একটি পিস্তল প্রদর্শন করে ভয়ভীতি দেখায়। প্রাণনাশের আশঙ্কায় জামাল হোসেন সেখান থেকে চলে আসেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত  বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ফজরের নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন জামাল হোসেন। পথে রেইসকোর্স এলাকার এস কে স্পোর্টসের সামনে থেকে অভিযুক্তরা তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে বায়তুল আমান ও তোফায়েল হোসেনের বাসার সামনের একটি খালি স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে পূর্বপরিকল্পিতভাবে সংঘবদ্ধ হামলা চালানো হয়।



অভিযোগে বলা হয়েছে, হামলার নেতৃত্বে থাকা আকিবুর রহমান আকিব প্রথমে ধারালো দা দিয়ে জামাল হোসেনের মাথায় কোপ দেন। পরে তার কাছে থাকা পিস্তল দিয়ে একটি গুলিও ছোড়েন। তবে গুলিটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় জামাল হোসেন প্রাণে বেঁচে যান। 


স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা আহতের চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে দ্রুত কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।


আহতের স্ত্রী তাছলিমা আক্তার বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি ও দখলবাজির অভিযোগ রয়েছে। তারা সংঘবদ্ধভাবে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছে। আমার স্বামীর ওপর হামলার ঘটনাও পরিকল্পিত এবং জমি দখলের উদ্দেশ্যে সংঘটিত হয়েছে বলে। আমি এর বিচার চাই। 



তবে, অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মোঃ আকিবুর রহমান আকিবের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এমন কোনো ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। 


কুমিল্লা মহানগর ৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক শিল্পী বলেন, আকিব যুবদলের কেউ না । সে যেই দল ক্ষমতায় আসে তার অনুসারী হয়ে যায়। তার বিরুদ্ধে এলাকায় অনেক অভিযোগ।‌



এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোতয়ালী মডেল থানার ওসি তদন্ত মো. আলমগীর হোসেন বলেন, আমরা অভিযোগটি পেয়েছি৷ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


এ বিষয়ে কোতয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগে অভিযুক্ত ১৩ জনের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং হামলার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য অজ্ঞাত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।

২২ দিন আগে মঙ্গলবার, আগস্ট ১১, ২০২৬

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন