Daily Bangladesh Mirror

ঢাকা, সোমবার, আগস্ট ৩, ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

রাজনীতি

দেশকে নতুন কিছু দেওয়ার প্রত্যয়ে তরুণদের রাজনীতি করা উচিত: রুহুল কবির রিজভী

ডেস্ক রিপোর্ট:
৯ ঘন্টা আগে সোমবার, আগস্ট ৩, ২০২৬
# ফাইল ফটো


জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) একটি পশ্চাৎমুখী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট করেছে, যা রাজনৈতিক দর্শনের দিক থেকে সঠিক সিদ্ধান্ত নয় বলে জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।


রোববার (২ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল কর্তৃক আয়োজিত জুলাই রক্তাক্ত: স্মরণ ও প্রত্যয় শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।


তিনি বলেন, যারা তরুণ রাজনীতি করেন, তাদের চিন্তা-ভাবনা হওয়া উচিত প্রগতিশীল ও অগ্রগামী। দেশকে নতুন কিছু দেওয়ার প্রত্যয় থেকেই তরুণদের রাজনীতি করা উচিত; কিন্তু আপনারা একটি পশ্চাৎমুখী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট করেছেন। রাজনৈতিক দর্শনের দিক থেকেও এটি সঠিক সিদ্ধান্ত নয়।


প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেন, শেখ হাসিনা মনে করেছিলেন গুলি চালিয়ে, রক্তগঙ্গা বইয়ে দিয়ে তিনি ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে পারবেন; কিন্তু তিনি এ দেশের মানুষের সাহস ও বীরত্বের ইতিহাসকে মূল্যায়ন করতে পারেননি। ক্ষমতা ধরে রাখতে তিনি হেলিকপ্টার থেকেও গুলি চালিয়েছেন। ক্ষমতার জন্য নিজের দেশের মানুষের রক্তের উপর দিয়েও হাঁটতে তার দ্বিধা ছিল না।


জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির এই নেতা বললেন, জুলাই বিপ্লব ১৭ বছরের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন সংগ্রামের চূড়ান্ত গণতন্ত্রের প্রশ্নে তার দৃঢ় অবস্থান থেকে শেখ হাসিনা তাকে বিচ্যুত করতে পারেননি।


প্রশাসনে দলীয় নিয়োগ নিয়ে রিজভী বলেন, সরকার পরিবর্তনের পর প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন সরকার নিজেদের লোক নিয়োগ দেয়, যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও প্রচলিত।


তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্পয়েলস সিস্টেম’-এর উদাহরণ দিয়ে বলেন, সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সেখানে হাজার হাজার পদে নতুন নিয়োগ হয়। এটি বেআইনি নয়।


একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ভবিষ্যতে জামায়াত ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দলীয়করণ ঘটবে।


বক্তব্যের একপর্যায়ে রাজনৈতিক ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়েও মন্তব্য করেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নিয়মিত মিথ্যাচার ও অপপ্রচার চালাতেন। আমরা তাকে ফ্যাসিস্ট ও খুনি বলেছি, কিন্তু কখনো অশালীন ভাষা ব্যবহার করিনি। এখন কিছু তরুণ নেতার বক্তব্যে যে ভাষা দেখা যাচ্ছে, তা গণতন্ত্র, সভ্যতা কিংবা উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতির সহায়ক নয়। এই ভাষা শেখ হাসিনার অপসংস্কৃতিরই প্রতিফলন।


তিনি আরও বলেন, সমাজে ঘৃণার রাজনীতি করে কেউ টিকে থাকতে পারে না। ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়েই শেখ হাসিনার পরাজয় হয়েছে। তাই নতুন প্রজন্মের রাজনীতিকদের উচিত সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি না করে ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা।


আলোচনা সভায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি নাসির উদ্দিন নাসির শিবিরের সমালোচনা করে বলেন, গত মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হলে ছাত্রশিবিরের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতা অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ধরা পড়ে হল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন। একইভাবে শহীদুল্লাহ হলের ছাত্রশিবিরের নির্বাচিত জিএসের কক্ষেও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে বহিষ্কার করে। এ ঘটনার জেরে হলের এক হাউস টিউটর লজ্জায় পদত্যাগ করেন।


এ সময় তিনি এনসিপির নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ধারাবাহিকভাবে দেশের রাজনীতিবিদদের নিয়ে তির্যক ও অশালীন মন্তব্য করে আসছেন। তার বক্তব্যের জবাব দেওয়ার রুচি আমাদের নেই। তাকে অবিলম্বে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া উচিত, যাতে তিনি সুশিক্ষা গ্রহণ করে রাজনীতিতে ফিরে আসতে পারেন।


রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মারকে উদ্দেশ করে তিনি বললেন, দুঃখজনকভাবে মানসিক ভারসাম্যহীন একজন ব্যক্তিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এখানে ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচিত করেছেন। যিনি পলিসি মেকিংয়ে কাজ না করে, বেলচা দিয়ে শিক্ষার্থীদের ভয় দেখাচ্ছেন, শিক্ষার্থীদের মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছেন। এরকম যদি আর একবার দুইবার হুমকি আপনি দিতে থাকেন, তাহলে জনতা একসময় আপনাকে এমন মারবে যে, আর পালানোর পথ খুঁজে পাবেন না।


আলোচনা সভায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল, মহানগর বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

৯ ঘন্টা আগে সোমবার, আগস্ট ৩, ২০২৬

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন