শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, বিগত ২০০৮-০৯ অর্থবছর থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত দীর্ঘ ১৭ বছরের শাসনামলে শিক্ষা খাতে হওয়া অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্ত করে শ্বেতপত্র প্রকাশের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মাদরাসাগুলোতে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, আইটি ও ইংরেজি ভাষা শিক্ষা চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ
উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য জানায় তিনি।অধিবেশনে লিখিত প্রশ্নে সরকারি দলের সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের বিগত সরকারের শিক্ষাখাতে দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশের পরিকল্পনা আছে কি না এবং থাকলে থাকলে তা কবে নাগাদ বাস্তবায়িত হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওই সময়ে শিক্ষা খাতে সংঘটিত অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়সমূহ পর্যালোচনার জন্য সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশনার মূল লক্ষ্য শিক্ষা খাতের সম্ভাব্য অনিয়ম, দুর্নীতি ও ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতাসমূহ যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করে একটি সমন্বিত প্রতিবেদন তৈরি করা।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ সাপেক্ষে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশের বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। তবে তদন্ত কার্যক্রমের পরিধি অত্যন্ত ব্যাপক হওয়ায় এই মুহূর্তে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।
তদন্ত ও যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শেষ হওয়া মাত্রই পর্যায়ক্রমে শ্বেতপত্র প্রণয়ন ও জনসম্মুখে প্রকাশের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, মাদরাসা শিক্ষাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে মাদ্রাসার কারিকুলামে পেশাভিত্তিক ও বৃত্তিমূলক বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। মাদরাসায় ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, আইটি ও ইংরেজি ভাষা শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। কারিকুলাম যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের একটি কমিটি কাজ শুরু করেছে।
তিনি আরো জানায়, ‘নির্বাচিত মাদ্রাসাসমূহের উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে এক হাজার ৪৪৫টি মাদ্রাসার ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। ‘মাদ্রাসা শিক্ষার মানোন্নয়ন’ শীর্ষক নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে শিক্ষকদের জন্য বিষয়ভিত্তিক সৃজনশীল পদ্ধতির প্রশিক্ষণ এবং আইসিটি বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়াও মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন এবং ডিজিটাল ল্যাব স্থাপনের মাধ্যমে ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
২২ ঘন্টা আগে শুক্রবার, এপ্রিল ২৪, ২০২৬
