Daily Bangladesh Mirror

ঢাকা, বুধবার, ফেব্রুয়ারী ১৮, ২০২৬, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২

জাতীয়

“২০২৬ সালের সংসদীয় নির্বাচন ছিল নির্ভরযোগ্য এবং সুপরিচালিত, অনেকাংশেই আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ ছিল : ইইউ ইওএম

বিশেষ প্রতিবেদন:
২০ ঘন্টা আগে বুধবার, ফেব্রুয়ারী ১৮, ২০২৬
# ফাইল ফটো



ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য (এমইপি) এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচন (ইইউ ইওএম) এর প্রধান পর্যবেক্ষক ইভার্স ইজাবস  ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ওপর মিশনের প্রাথমিক বিবৃতি উপস্থাপন করেন। ইউরোপীয়  পার্লামেন্ট সদস্যদের প্রতিনিধিদল, যার নেতৃত্বে ছিলেন টমাশ জদেখোভস্কি (এমইপি), মিশনের এ বিবৃতিকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন।

 

“২০২৬ সালের সংসদীয় নির্বাচন ছিল নির্ভরযোগ্য

এবং সুপরিচালিত, যা গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ও আইনের শাসন পুনঃ প্রতিষ্ঠার পথে যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এই ঐতিহাসিক লড়াইটি ছিল প্রকৃত অর্থেই প্রতিযোগিতামূলক, যেখানে মৌলিক স্বাধীনতাকে সম্মান করা হয়েছে। নির্বাচনের আইনি কাঠামো অনেকাংশেই আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ ছিল এবং বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন স্বাধীন ও স্বচ্ছভাবে কাজ  করেছে, যা অংশীজনদের আস্থা ধরে রেখেছে এবং নির্বাচনের সততা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করেছে,” বলেন প্রধান পর্যবেক্ষক ইজাবস। 


তিনি আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচনের প্রতি জনআস্থা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং ভোটারদের সচেতন সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করার ক্ষেত্রে নাগরিক পর্যবেক্ষক, ফ্যাক্ট- চেকার, তরুণ ও নারী কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।


ইইউ ইওএম পর্যবেক্ষকগণ লক্ষ্য করেছেন যে নির্বাচন ছিল সুশৃঙ্খল, উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ । নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির নিষ্ঠা এবং দক্ষতার সঙ্গে ভোটকেন্দ্র খালা, ভোটগ্রহণ এবং ভোটগণনা কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে রাজনৈতিক দলের এজেন্টদের উপস্থিতি নির্বাচনের স্বচ্ছতা জোরদার করেছে। একই সঙ্গে রিটার্নিং অফিসারদের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে ফলাফল-সংক্রান্ত নিয়মিত তথ্য প্রদান এবং গণমাধ্যমে প্রচার জনআস্থা বজায় রাখতে সহায়ক হয়েছে। তবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বাধীনভাবে অংশগ্রহণ সব ক্ষেত্রে নিশ্চিত করা হয়নি৷


প্রধান পর্যবেক্ষক জোর দিয়ে বলেন যে, নারীদের জন্য সীমিত রাজনৈতিক পরিসর তাদের সমান অংশগ্রহণকে ব্যাহত করেছে। এছাড়া কিছু  এলাকায় বিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক সহিংসতা এবং বিভ্রান্তিকর তথ্যের কারণে সৃষ্ট বিক্ষুব্ধ জনতার আক্রমণের (মব আ্যাটাক) আশঙ্কা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করেছে। ইতিবাচক উদ্যোগ না থাকায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও সংখ্যালঘুরা এখনও রাজনৈতিক পরিসরে পর্যাপ্ত প্রতিনিধিত্বের সুযোগ থেকে বঞ্চিত। ইভার্স ইজাবস বলেন, “এখন সময় এসেছে সেই পুরোনো চর্চাগুলো পরিত্যাগ করার, যা বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ক্রমবর্ধমান উত্তরণের সঙ্গে আর সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, এবং সেই সাথে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান, মানবাধিকার ও জবাবদিহিতা জোরদারের অভিপ্রায়ে একটি নতুন

পথরেখা নির্ধারণ করার। ”


টমাশ জদেখোভস্কি, ইউরোপীয় পার্লামেন্ট প্রতিনিধিদলের প্রধান, বলেন: "বাংলাদেশ এখন একটি নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে পদার্পণ করেছে। আমরা নতুন সংসদ ও সরকারকে সকল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নিয়ে অনুমোদিত সংস্কারগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানাই ৷”


ইইউ ইওএম ২০২৫ সালের শেষ দিক থেকে বাংলাদেশে অবস্থান করছে এবং নির্বাচনের দিনে সব মিলিয়ে ২২৩ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিয়ে কাজ করেছে। এ পর্যবেক্ষকেরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের । সদস্য রাষ্ট্রের পাশাপাশি কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড থেকে এসেছেন এবং নির্বাচনের দিন দেশের ৬৪টি প্রশাসনিক জেলায় মোতায়েন ছিলেন।

২০ ঘন্টা আগে বুধবার, ফেব্রুয়ারী ১৮, ২০২৬

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন